শীতে বেড়ানোর ৩টি দারুন জায়গা-ঘুরে আসতে পারেন

বছরের শুরুতেই  আপনার পরিবারের সদস্য বা বন্ধু বান্ধব সাথে  এই ৩টি দারুন জায়গা  ঘুরে আসতে পারেন। যেখানে দুই বা তিন দিনই বেড়াবার জন্য যথেষ্ট। এই জায়গাগুলি বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সাথে ঘোরার জন্য সেরা। এই জায়গাগুলো গ্রীষ্মকালে দেখতে অনেক সুন্দর মনে হলেও শীতের সময়ে এখানে ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা। এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতি  আপনার শরীর ও মন দুই ভাল করে দেবে। এই জায়গাগুলো কেবল দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ঘুরে আসা যায়।

 

এই সব জায়গাগুলো হল:-

1. বড়ন্তি

বড়ন্তি
বড়ন্তি

নতুন বছরের শুরুতেই হালকা হালকা শীতে একটু  ছুটি কাটাতে আপনার পরিবারের সদস্য বা বন্ধু বান্ধব সাথে প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোর জন্য চলুন ‘লাল-পাহাড়ির দেশে’। পুরুলিয়ার বড়ন্তি শীতে দুটো দিন কাটানোর দারুণ জায়গা। শাল-শিমূল, মহুয়া,পলাশ, পিয়াল, সেগুন ইত্যাদি সব ধরনের গাছের বনের। এই শীতে নিরিবিলিতে নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য আদর্শ।

•কীভাবে যাবেন:- নিজের গাড়িতে না গেলে শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে আসানসোলগামী যে-কোনও ট্রেনে চেপে বসুন। আসানসোল থেকে আদ্রা এবং আদ্রা থেকে সামান্য পথ বড়ন্তি।

• কোথায় থাকবেন :– পলাশবাড়ি ইকোলজিক্যাল রিসোের্ট থাকার জন্য বেশ ভালো। এখানে মোটামুটি ১,০০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা মতো খরচ হতে পারে প্রতি রাতে ঘর ভাড়া হিসেবে।

2. হেনরি আইল্যান্ড

. হেনরি আইল্যান্ড
. হেনরি আইল্যান্ড

হেনরি আইল্যান্ড ম্যানগ্রোভ ঘেরা শান্ত, নিরিবিলি সমুদ্রসৈকত এবং শীতে বেড়ানোর দারুন জায়গা। বকখালির একেবারেই কাছে, তবে কলরবহীন। কলকাতা থেকে মাত্র ১৩০ কিমি দূরে, লোকাল ট্রেনে করে ৩ ঘন্টায় নামখানা পৌঁছন, সেখান থেকে সড়কপথে হেনরি আইল্যান্ড। সুন্দরবনের পশ্চিমদিকে পশ্চিমবঙ্গের সেরা বিচ রিসর্ট রয়েছে এখানে। হেনরি আইল্যান্ড ঘুরে আসুন প্রিয়জন বা পরিবারকে নিয়েও।

•কিভাবে যাবেন:- শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল বা নামখানা লোকাল ধরে নামখানা স্টেশনে নেমে গাড়িতে সোজা হেনরি আইল্যান্ড।

• কী কী দেখবেন:রোজকার ব্যস্ততাকে দূরে রাখতে চাইলে এমন অফবিট জায়গা উইকেন্ডের জন্য পারফেক্ট। সবুজ ম্যানগ্রোভ, পায়ের নিচে সমুদ্রের ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ, রাতের বেলায় বনফায়ার- সব মিলিয়ে নতুন বছরের দারুণ প্রাপ্তি।

 

3. গোলপাতা জঙ্গল:

গোলপাতা জঙ্গল:
গোলপাতা জঙ্গল:

 

গোলপাতার জঙ্গল, আমাদের অনেকেরই  এই কথাটা শুনলেই সুন্দরবনের কথা মনে পড়ে। এটি সুন্দরবন থেকে অনেক দূরে নয় তবে সুন্দরবন না পৌঁছেও সুন্দরবনের অনুভূতি পেতে পাবেন এখানে। কলকাতা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনার টাকী তে ইছামতী নদী বরাবর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বন- জঙ্গলের শোভা আপনাকে মুগ্ধ করবে। বিশেষ করে শীতকালে। ইচ্ছা হলে নৌকাই চড়ে বাংলাদেশের খুব কাছ থেকে ঘুরেও আসতে পারেন। তবে সাথে পরিচয়পত্র রাখতে ভুলবেন না কারন জঙ্গলের কিছু কিছু অঞ্চলে ঢোকার জন্য তা লাগতে পারে। নদীর পাড়ে ১-২ দিনের জন্য ক্যাম্পিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। কাছেই রয়েছে মাছরাঙা দ্বীপ, কুলেশ্বরী মন্দির, জোড়া সাহিব মন্দির ও দুর্গাদালান। একদিন সময় নিয়ে অবশ্যই দেখা যেতে পারে।

• কিভাবে যাবেন:- শিয়ালদাহ থেকে লোকাল ট্রেনে করে টাকি রোড স্টেশন। সেখান থেকে অটো অথবা রিক্সা।

• কোথায় থাকবেন:- টাকি ইছামতির তীরে অজস্র ভালো সরকারি ও বেসরকারি হোটেল ও লজ আছে।

Leave a Comment